আজ সিরাজগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আমীর হোসেন ভুলুর প্রয়ান দিবস

 

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম সংগঠক, সিরাজগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক (চীফ অব কমান্ড), সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী সমিতি, সিরাজগঞ্জ শাখা এর সাধারন সম্পাদক (১৯৭২), বাংলাবাজার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, বাইতুল মুমিন জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

অহিংস ও ত্যাগের রাজনীতির প্রতীক আমির হোসেন ভুলু

জন্মঃ ১৯৪০ ইং

মৃত্যুঃ ১৩ই অক্টোবর, ২০০৭ ইং

পিতার নামঃ মরহুম বন্দে আলী সরকার

মাতার নামঃ মরহুম আজিজুন নেছা

স্ত্রীর নামঃ নাসরীন হোসেন মায়া

সন্তান সন্ততিঃ এক ছেলে ও এক মেয়ে

স্থায়ী ঠিকানাঃ জি, এম, হিলালী রোড, ধানবান্ধি, সিরাজগঞ্জ।

ফোনঃ ০১৭১৫-০১০৫২৩, ০১৬৭৩-৬৪০২৪০ (ছেলে)


সিরাজগঞ্জ রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক ইতিহাসের এক মহানায়কের নাম আমির হোসেন ভুলু। সিরাজগঞ্জের বুকে যে সময় ঘটেছে একাধারে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সমিতির মত চরম বাম রাজনীতির তৎপরতা ও লাল টুপীর মিছিল অপরদিকে প্রভাবশালী ধনিক বনিকদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধ্বজাধারী মুসলিম লীগের তর্জন গর্জ্জন ঠিক সেই সময় এই দুই মেরুর রাজনীতির মাঝ দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক শোষকের নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের আদর্শে লালিত সংগঠন ছাত্রলীগ, সিরাজগঞ্জের প্রতিষ্ঠা সভাপতি ছিলেন আমির হোসেন ভুলু। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সফলভাবে গড়ে তুলেছিলেন এক মহাশক্তিশালী সংগঠনরুপে। সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন যে, কতটা কষ্টকর এবং দরুহ ব্যাপার ছিল তা বলাই বাহুল্য। ৬২ থেকে ৭১ বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন, ৬৬ থেকে ৬৯ ছাত্রদের ১১ দফা, দুনিয়া কাঁপানো গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন ও অভূতপূর্ব বিজয়, ৭১-এ বীর বাঙ্গালী জাতীর সর্বশ্রেষ্ট অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রিয় স্বাধীনতা অর্জন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বিনির্মানের পুরোভাগ তিনি ছিলেন প্রগতির পতাকাবাহী অবিনাশী চেতনার যোগ্যতম প্রতিনিধি। সরল, উদার আর আপোষহীন এই মানুষটি কেবলমাত্র মানুষের ভালবাসায় অভিষিক্ত ছিলেন না দেশ প্রেম ও মনুষ্যত্বের গভীরতম স্থান থেকে উৎসারিত সৃজনশীল সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দক্ষতায় তিনি ছিলেন একটি ইনিস্টিটিউশন। দুর্নীতি, পেশীশক্তি, কালোটাকা আর নীতিহীনতা যখন রাজনীতিকে গ্রাস করে চলেছিল ঠিক সেই সময় আমির হোসেন ভুলুর সংগ্রামী জীবন, নির্লোভ চরিত্র, সাদামাটা যাপিত জীবন এক পাশে দাঁড় করালেই বোঝা যায় কে ছিলেন আমির হোসেন ভুলু। তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল নেতা যার অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ছাত্রদের আকর্ষন করার মত অসাধারন ক্ষমতাই ষাটের দশকে তাকে করেছিল সিরাজগঞ্জের অবিসাংবাদিত ছাত্র নেতা। তাই তো সেদিন যারা তার সান্নিধ্যে এসেছিলেন তাদের অনেকইে রাজনীতিতে, চাকুরীতে, ব্যবসায়, সমাজের সর্বক্ষেত্রে সু-প্রতিষ্ঠিত এবং রাষ্ট্রীয় অনেক বড় বড় পদে অধিষ্টিত। সিরাজগঞ্জে যেসব রাজনীতিক গুণীজন স্ব-স্ব অবস্থান থেকে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে আমির হোসেন ভুলু তার ব্যতিক্রমী সাংগঠনিক দক্ষতা, মেধা, দৃঢ়তা দিয়ে তৈরী করেছেন আপন বৈশিষ্ট্য। তাই তো তিনি একাধারে সিরাজগঞ্জ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তার নেতৃত্বে মিত্রবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়াই ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সিরাজগঞ্জ শহর স্বাধীন হয়েছিল। সেদিন সকল মুক্তিযোদ্ধরা আমির হোসেন ভুলুকে সিরাজগঞ্জের সর্বাধিনায়ক মনোনীত করে তাঁর নেতৃত্ব সিরাজগঞ্জে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করা হয় (উল্লেখ্য, সর্বাধিনায়ক শব্দটি মুলতঃ দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে বুঝানো হয়, তবে সেই সময় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আবেগের কারনে অধিনায়কের পরিবর্তে সর্বাধিনায়ক শব্দটি ব্যবহার করেন)। সেসময় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সিনেমা হলে আমির হোসেন ভুলু-র নামে বিভিন্ন আদেশ প্রচার করা হতো। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগ নামক সংগঠনটির অস্তিত্ব বিপন্ন তখন তিনি ১৯৭৯ সালের দিকে সিরাজগঞ্জ মহুকুমা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে মহুকুমা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হন।

সিরাজগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রাণপুরুষ আমির হোসেন ভুলু ১৯৪০ সালে কাজীপুরের তেকানী ইউনিয়নের দোরতার চরে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম বন্দে আলী সরকার এবং মাতা মরহুম আজিজুন নেছা। পিতা বন্দে আলী সরকার সরিষাবাড়ীতে রেলী ব্রাদার্স পাটের কুঠির কমিশনে পাটের ব্যবসা করতেন অঘাত সহায় সম্পত্তির মালিক ছিলেন। বনেদী ঘরের সন্তান হওয়ার কারনে অর্থের কোন অভাব ছিল না। শিশুকালে তিনি মাতৃহারা হন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন দোয়েল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করার পর তারাকান্দি জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ৭ম শ্রেণী পাশ করেন। পরবর্তীতে কিছুদিন মেছড়া হাইস্কুলে লেখাপড়া পর সিরাজগঞ্জ ভিক্টোরিয়া স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ভিক্টোরিয়া স্কুলে তিনি ক্লাস ক্যাপ্টেন ও পরবর্তীতে জেনারেল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। জড়িয়ে পড়েন নানা সমাজসেবামূলক কাজ কর্মে। সিরাজগঞ্জের ভিক্টোরিয়া স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর আস্তে আস্তে রাজনীতির সাথে জড়িত হন সেই সময় ছিল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন। তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেন। সম্ভবত ১৯৬২ সালে তিনি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হন এবং ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে ঢাকায় যোগাযোগ করে সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব নিয়ে আসেন। অসাধারন সাংগঠনিক ক্ষমতার বলে মুসলিম লীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের বলয় ভেদ করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছাত্রলীগ নামের ছাত্র সংগঠন। সেই সময় তাঁর প্রথম সাথী হিসেবে আমিনুল ইসলাম চৌধুরী (যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক) ছাত্রলীগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে শফিউল আলম, রফিকুল ইসলাম, বেগমাসহ আরও কয়েকজন ছাত্রলীগের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। অসীম ব্যক্তিত্বের অধিকারী আমির হোসেন ভুলু সিরাজগঞ্জ কলেজ সংসদে ছাত্রলীগের পক্ষে নির্বাচন করে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সংগ্রামী মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রমে সিরাজগঞ্জে পূর্ব-পাকিন্তান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সিরাজগঞ্জ মহুকুমায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি বিস্তৃতিতে অত্যন্ত সহায়তা করে। পরবর্তীতে তিনি সিরাজগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে আই.এ এবং বি.এ পাশ করেন। সেই উত্তাল দিনগুলিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তিনি করাচী ইউনিভার্সিটেতে এম.এ ভর্ত্তি হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে ছাত্রলীগ-কে সংগঠিত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। সেই সময় ৬ দফা আন্দোলনের উপর বক্তৃতা করার সময় পূর্ব পাকিস্তানের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলায় তিনি পশ্চিম পাকিস্থানীদের হামলার শিকার হন এবং করাচী ইউনিভার্সিটি হইতে বহিস্কার হন। পরবর্তীতে তিনি অন্যের নামে কাটা বিমানের টিকিটে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এ ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি জগন্নাথ কলেজে এলএলবি ভর্তি হন কিন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি তা সম্পন্ন করতে পারেননি। ৭১-এর জানুয়ারী মাসে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। একদিকে নবপরিনীতা বধু অন্যদিকে স্বাধীনতার ডাক। খুব কম লোকই আছেন যারা নবপরিনিতা বধুকে তুচ্ছ করে, যৌবনের দূর্নিবার আকর্ষনকে পরিত্যাগ করে ও মৃত্যু ভয়কে পায়ে দলে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার আন্দোলন তথা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর সারাদেশের মত সিরাজগঞ্জেও আওয়ামী সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদারকে আহবায়ক ও জনাব আনোয়ার হোসেন রতুকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের আওয়ামী সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সেই সংগ্রাম পরিষদে ছাত্র নেতাদের মধ্যে মরহুম আমির হোসেন ভুলু ও জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন। 

আওয়ামী সংগ্রাম পরিষদ এর পক্ষ হতে মরহুম আমির হোসেন ভুলুকে সিরাজগঞ্জ মহুকুমা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাথে সমন্বয় সাধন করে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কারণ তিনি তৎকালীন ছাত্র নেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান, আব্দুল লতিফ মির্জা, আব্দুর রউফ পাতা, গোলাম কিবরিয়া, ইসহাক আলী, আব্দুল হামিদ তালুকদার, আজিজুল হক বকুলসহ অনেকের রাজনৈতিক গুরু ও সবার শ্রদ্ধেয় ভুলু ভাই। যুদ্ধ শুরুর প্রথম পর্যায়ে তিনি ভারতে যান। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে দিক নির্দশনা নিয়ে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জ ৭ নং সেক্টরের আওতাধীন ছিল। মরহুম আমির হোসেন ভুলু এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়াই সিরাজগঞ্জ শহর হানাদার মুক্ত হয়েছিল। এদিন সকালে প্রিয় শহর দখলে নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। হাজারও কৃষক-শ্রমিক-জনতা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শহরে প্রবেশ করে। জয় বাংলা স্লোগানে-স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মুক্ত সিরাজগঞ্জের বাতাস। সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠে সেই দিন সকল মুক্তিযোদ্ধরা মরহুম আমির হোসেন ভুলুকে সিরাজগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এবং মরহুম আব্দুল লতিফ মির্জাকে সহ-অধিনায়ক ঘোষনা দেন (উল্লেখ্য, সর্বাধিনায়ক শব্দটি মুলতঃ দেশের রাষ্ট্র প্রধানকে বুঝানো হয়, তবে সেই সময় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আবেগের কারনে অধিনায়কের পরিবর্তে সর্বাধিনায়ক শব্দটি ব্যবহার করেন)। তাঁর নেতৃত্ব সিরাজগঞ্জে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসামরিক প্রশাসনের প্রশাসক হিসেবে জনাব মোঃ ইসমাইল হোসেনকে মনোনীত করা হয়। লোভ-লালসার উর্দ্ধে থেকে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনের কাজে আত্ম নিয়োগ করেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কাজীপুরে বাংলাবাজার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আজকে যমুনা নদীর উপর যে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মান করা হয়েছে সেই সেতুর প্রাথমিক যাচাই বাছাইয়ের সময় জাপান সরকারের একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধি ১৯৭২ সালে সিরাজগঞ্জে সাইট পরিদর্শনে আসে। সেই সময় জাপান মৈত্রী সমিতি, সিরাজগঞ্জ শাখা নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে তাহাদের অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জাপান মৈত্রী সমিতি, সিরাজগঞ্জ শাখা এর সভাপতি হিসাবে মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদার এবং সাধারন সম্পাদক হিসাবে মরহুম আমির হোসেন ভুলু দায়িত্ব পালন করেন। ৭৫’ এর পট পরিবর্তনের সময় সিরাজগঞ্জে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাঙ্গালীর অবিসাংবাদিত নেত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সশস্ত্র প্রতিবাদের জন্য থানায় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য যান। যার প্রেক্ষিতে তিনি কারারুদ্ধ অবস্থায় অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল, যার স্মৃতি চিহ্ন তাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়েছে। তিনি ১৯৭৯ সাল হইতে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক ছিলেন। জীবনে অসংখ্য বার জেল খেটেছেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। তবে কখনও আপোষ করেননি। তার জীবন কাটিয়েছেন রাজনীতির মাঠে। তবে রাজনীতির মাঠ থেকে কখনও কোন ধরনের সুবিধা নেননি। তাই তো যারা তাকে চেনেন বা জানেন একজন ত্যাগী নেতা হিসাবেই জানেন। তাহার মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ প্রখর হওয়ার কারনে তিনি কখনও কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি কিংবা সত্য বলতে বা স্বীকার করতেও তিনি কখনও দ্বিধা বোধ করেননি। তিনি পাটের ব্যবসা, ঠিকাদারী ও ইটের ভাটার ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ৮৭/৮৮ সালে তিনি কারাবরনের করেন। ৮৭/৮৮ সালের বন্যার সময় তিনি জেলে থাকায় তাঁর গুদাম ভর্ত্তি পাট পঁচে যায় এবং ইটের ভাটার ইট চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে নিজের ঢাকার মাথা গোজার ঠাঁই ঢাকায় ইন্দিরা রোডের বাড়ীটি বিক্রি করে দিয়ে তিনি ব্যাংক লোন শোধ করেন তবুও তিনি কোন রাজনৈতিক সুবিধা নেননি।

No comments

Powered by Blogger.